নাটকীয়তার জয়ে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন
ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচ হয়েছে কি না, তা বোদ্ধারাই বলতে পারবেন। তবে লর্ডস যে নিঃসন্দেহে একটা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে শেষ হাসি হাসল ইংল্যান্ড। সেই সুবাদে প্রথমবারের মতো আইসিসি বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে সক্ষম হলো ক্রিকেটের উদ্ভাবক এই জাতি।
চল্লিশ বছর বাদে লর্ডসের বারান্দায় বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট দল হিসেবে ইংল্যান্ড। এই লর্ডসে ১৯৭৯ বিশ্বকাপে ফাইনাল হেরেছিল ক্রিকেটের জনক দেশটি। চল্লিশ বছরে চার-পাঁচটি ক্রিকেট প্রজন্ম পেরিয়ে গেছে ইংলিশদের।
জিওফ বয়কট থেকে ইয়ন মরগানদের কাঁধে চেয়েছে স্বপ্ন ছোঁয়ার ভার। মধ্যে ভিন্ন দেশে মাইক গেটিং থেকে ইয়ান বোথামরা স্বপ্নের কাছে গিয়ে হতাশায় শেষ করেছেন। রোদ পড়া কারুকাজ করা তামাটে লর্ডসের বারান্দায় সেই বিরুদ্ধ ইতিহাস জয় করতে নামেন বাটলার-স্টোকসরা।
নক কাঁটা, দম বন্ধ করা ম্যাচ টাই হয়। ফুটবলের সুবাদে বিশ্বকাপ ফাইনাল টাই দেখার ভাগ্য হয়েছে অনেকের। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল প্রথম টাই। আবার সুপার ওভারের দম ফাঁটা উচ্ছ্বাস। তাতেও টাই হয় ম্যাচ। পরে বাউন্ডারি ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। মুকুট ওঠে পোমসদের মাথায়।
প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ঠিক ২৪১ রানেই অলআউট হয় ইংলিশরা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের।
তৃতীয় ও চতুর্থ বল থেকে ১২ রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। শেষ দুই বলে দুই রান নিয়ে রান আউটে দুই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। নিয়ম অনুযায়ী পরে ব্যাটিং করা দল সুপার ওভারে শুরুতে ব্যাটিং করে। দারুণ ইনিংস খেলা বাটলার এবং স্টোকসকে নামায় ইংল্যান্ড।
তারা তোলেন ১৫ রান। নিউজিল্যান্ডও তোলে ১৫ রান।সুপার ওভারেও দুই দল সমান ১৫ রান করে সংগ্রহ করে। তাই সুপার ওভারের খেলাও টাই হয়। তবে বাউন্ডারি বেশি থাকায় ইংল্যান্ড জিতে নেয় শিরোপা।

