ইংলিশদের জয়ের নায়ক স্টোকস-আর্চার
হয়তো একেই বলে নাটকীয়তা। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ হলো টাই। তাতে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচে সুপার ওভার দেখে বিশ্ব। মজার ব্যাপার সেই সুপার ওভারও হলো টাই। কিন্তু ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মারায় জয় পেল ইংল্যান্ড। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা গেল ক্রিকেটের জনকদের ঘরে।
এমন এক ম্যাচে ইংলিশদের জয়ের নায়ক কে? বলতে গেলে একাই লড়াই করা বেন স্টোকস। সুপার ওভারে এসেও নায়ক এই অলরাউন্ডারই। সঙ্গে নিলেন যার বিশ্বকাপ দলে আসাই ছিল বড় চমক, সেই জোফরা আর্চারকে।
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ২৪২ রান, কিন্তু এমন পিচে রান করা মোটেই সহজ ছিল না। একটা সময় তাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে বলতে গেলে একাই দলকে টেনে তুলেন বেন স্টোকস। হার না মানা ৮৪ রান করে দলকে নিয়ে যান একদম ‘টাই’ পর্যন্ত।
টাইয়েও ইংলিশদের ত্রাতার ভূমিকায় এই বেন স্টোকস। ট্রেন্ট বোল্টের করা প্রথম দুই ডেলিভারিতে সুযোগ না থাকায় রানই নেননি, স্ট্রাইকে থাকতে চেয়েছেন নিজেই। তৃতীয় বলে হাঁকান ছক্কা। ভাগ্য যেন তার শরীরটাকেও স্পর্শ দিয়ে গিয়েছিল। চতুর্থ বলে দুই নিতে গেলে স্টোকসের গায়ে লেগেই ওভার থ্রোতে ৬ হয়ে যায়।
পঞ্চম বলে সিঙ্গেলসের জায়গায় ডাবলস নিতে গিয়ে সঙ্গীকে হারান রানআউটে। শেষ বলেও একইভাবে ডাবলস নিতে গিয়ে রানআউটে হয়েছে এক, তবে কাজের কাজটা করে দিয়েছেন স্টোকসই। বলতে গেলে সুপার ওভারেও একাই লড়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল করেন ট্রেন্ট বোল্ট। প্রথম বলেই ৩ রান নেন স্টোকস। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নেন জস বাটলার। পরের বলে দারুণ এক বাউন্ডারি তুলে নেন স্টোকস। চতুর্থ বলে সিঙ্গেল। পঞ্চম বলে ২ রান। শেষ বলে বাটলারের ব্যাট থেকে আসে আরও একটি বাউন্ডারি। ফলে স্কোরবোর্ডে মোট ১৫ রান যোগ করে ইংল্যান্ড।
পরে বোলিংয়ে এসে তুলির শেষ আঁচড়টা দিয়েছেন জোফরা আর্চার, যার এই বিশ্বকাপে খেলারই কথা ছিল না। নানা ঘটন-অঘটনের পর এসেছেন দলে, শেষ পর্যন্ত ফাইনালের মঞ্চ আলোকিত করলেন।
লক্ষ্য তাড়ায় নিউজিল্যান্ডের হয়ে ব্যাট করতে আসেন অফফর্মে থাকা মার্টিন গাপটিল ও জেমস নিশাম। প্রথমেই ওয়াইড দেন বোলার জোফরা আর্চার। প্রথম বলে নিশামের ব্যাট থেকে আসে ২ রান। দ্বিতীয় বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান তিনি। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে নেন ২ রান করে। শেষ ২ বলে দরকার ৩ রানের। পঞ্চম বলে সিঙ্গেলের বেশি আসেনি। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রানের। কিন্তু ১ রানের বেশি নিতে পারেননি গাপটিল।

