এরশাদের অবর্তমানে রংপুর সদরে তাঁর শূন্যতা পূরণ করবে কে?
এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর আসনে (রংপুর-৩) ২৮ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটল জাতীয় পার্টির। এখন থেকে এই আসনে হাল কে ধরবেন—শোকের পাশাপাশি এই আলোচনাও শুরু হয়েছে। এরশাদের মৃত্যুর খবরে গতকাল রবিবার ছিল রংপুর শোকের নগর। পথেঘাটে সর্বত্রই এরশাদকে নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে।
অনেককে মন্তব্য করতে শোনা গেছে, এরশাদের অবর্তমানে রাজনৈতিক যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা অপূরণীয়। তবে এরশাদকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ ১৯৯১ সাল থেকে রংপুর সদরের মানুষ এরশাদকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে আসছে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে এরশাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ মনে করছে, এরশাদের অবর্তমানে সদর আসন আর জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি মনে করছে, সদর আসন জাতীয় পার্টির আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনটি এরশাদের দখলে। জোটগত নির্বাচনের কারণে গত তিনটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এরশাদই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মনে করছে, দলের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর কারণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে দল আরো সুসংগঠিত হবে। দলের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে এখানে আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো দল সুবিধা করতে পারবে না।
একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা মনে করেন, দীর্ঘদিন থেকে রংপুর সদর আসনটি এরশাদ দখল করে রেখেছেন। তিনি এলাকায় না থাকার কারণে এখানকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামীতে এখানে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার কমিটির সদস্য রংপুর সদরের মানুষ চৌধুরী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমি দোয়া করি এরশাদ সাহেবকে আল্লাহ বেহেশত নসিব করুন। উপনির্বাচন হলে সে ক্ষেত্রে আমি বলব রংপুর সদর আসনে আওয়ামী লীগের একজন যোগ্য প্রার্থী দেওয়া হোক।’

