দাওয়াইসময়ের সেরা

মাস্ক পরে ভারি কাজ করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

শেয়ার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। তারই অংশ হিসেবে বাইরে বের হলে মাস্ক পরছেন সবাই। মাস্ক পরে শরীরচর্চা বা জগিং করলে শরীরে অক্সিজেন কমে গিয়ে বিপদে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে- এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চীনে সম্প্রতি ২৬ বছরের এক তরুণ ভাল্ভ লাগানো দামি মাস্ক পরে ২.৫ মাইল দৌড়োনোর পর আচমকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করে সুস্থ করে তোলা হয়। আবার চীনের একটি স্কুলে মাস্ক পরে মাঠে দৌড়োদৌড়ি করার সময় তিন জন স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পরে বাইরে যেতেই পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে ফাঁকা জায়গায় একা ভারি কাজকর্ম বা শরীরচর্চা করার সময় মাস্ক না পরাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যায়াম করুন, তখন মাস্ক পরার দরকার নেই। ব্যায়ামের সময় মাস্ক পরলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যাদের ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি আছে, হাঁপানির সমস্যা কিংবা আইএলডির মতো ক্রনিক ফুসফুসের অসুখ আছে তারা ভারী কাজ বা শরীরচর্চার সময় মাস্ক না পরলেও অন্য সময় লোকজনের মাঝে থাকলেই তাদের মাস্ক পরতে হবে।

এন-৯৫ বা টাইট মাস্ক পরে গাড়ি চালানোর সময়ও নানা সমস্যা হতে পারে। মাস্কের কারণে শরীরে এক দিকে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কে কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। অ্যালার্টনেস বা ক্ষিপ্রতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার অনেক সময় মাস্ক থেকে চশমার কাচ ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় গাড়ি বা বাইক চালাতে অসুবিধে হয়। গাড়িতে অন্য কেউ থাকলে মাস্ক পরতে হবে। তবে তা সাধারণ মাস্ত হলেই চলবে। তখন আরও সাবধানে চালাতে হবে গাড়ি। ভিড় জায়গায় গেলে বা বাজার-দোকান গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। ফাঁকা রাস্তায় একা গাড়ি, সাইকেল বা মোটর সাইকেল চালানোর সময় মাস্ক না পরলেও চলে। কারণ এই অসুখের ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায় এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি।

চীনের যে তরুণ মাস্ক পরে দৌড়োনোর সময় ফুসফুসের জটিল সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁর নিউমোথোরাক্স নামে এক সমস্যা হয়েছিল। ফুসফুস এবং চেস্ট ওয়ালের মাঝের জায়গায় কোনোভাবে বাতাস ঢুকে গেলেই নিউমোথোরাক্স হয়। তবে মাস্ক পরার জন্যে নিউমোথোরাক্স হওয়াটা খুবই বিরল ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানুষের মোট তিনটি কারণে নিউমোথোরাক্স হতে পারে। এক, কেউ যদি খুব গভীর পানিতে ডুব দেন। দুই, অত্যন্ত ভারি জিনিস বয়ে নিয়ে যান। তিন, ৩০- ৩৫ হাজার ফুট উপরে ওড়ার সময় যদি যথাযথ বাতাসের চাপ না থাকে। এই তিন কারণ থাকলে তবেই নিউমোথোরাক্সের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও ১৫-৩৪ বছর বয়সের স্মোকার ও মাদক সেবনকারীদের এই সমস্যার ঝুঁকি বেশি। বংশগতভাবেও এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়া সিস্টিক ফাইব্রোসিস, টিবি, নিউমোনিয়া, সারকয়েডোসিস, পালমোনারি ফাইব্রোসিস জাতীয় অসুখগুলো থাকলেও এই রোগের ঝুঁকি থাকে।

মর্নিং ওয়াক কিংবা অন্যান্য পরিশ্রমসাধ্য কাজের সময় করোনাভাইরাস এড়াতে সাধারণ মাস্ক পরে থাকলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে যদি কারও ফুসফুসের ক্রনিক অসুখ থাকে তাঁকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *