লাইফ-দেশ

বাবা নামের দানবটার সঙ্গে নারকীয় ১২ বছর, অতঃপর খুনি হয়ে ওঠা

শেয়ার

মানুষের জীবনে কত গল্পই না থাকে। কিছু গল্প সত্যিকার অর্থেই নির্মম সত্য হয়ে বেরিয়ে আসে। এখানে তেমনই এক ব্যক্তির জীবনের গল্পটা ছোট পরিসরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কানাডার মন্ট্রিলের এই বাসিন্দা নিজের নাম ও পরিচয় গোপন রেখে জীবনের নির্মম কিছু সত্য প্রকাশ করেছেন।

নিউ ইয়র্কের এক সাংবাদিককে তিনি কথাগুলো বলেছেন। আর সেই সাংবাদিক সাক্ষাৎকারদাতার চেহারা না দেখিয়ে তার পিয়ানো বাজানোর একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। লেখাটি পড়লে মনে হবে কোনো হরর মুভির নিপীড়িত এক শিশু, যে কিনা পরে নির্মম খুনি হয়ে ওঠে। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা ভয়ংকর। এই ধরনের স্বভার সিরিয়াল কিলারদের থাকে। তাদের অনেকেরই খুব বাজে শৈশব কেটেছে’। এটা একজন মানুষের জীবনের সত্য কাহিনি। লেখাটি এরকম: 

‘আপনি আমার জীবন নিয়ে একটি হরর সিনেমা বানাতে পারেন। আমার বয়স যখন পাঁচ, তখন আমার মা ক্যান্সারে মারা যায়। তারপর আমার ওপর শুরু হলো বাবার নিপীড়ন। আমি আবারো বলছি বাবা নিপীড়ন করতো, সেইরকম নিপীড়ন। আমাকে চেয়ারের সাথে শেকল দিয়ে বাঁধতো এবং চামড়ার তৈরি কিছু দিয়ে গালে মারতো। এটা অনেকটা ‘দ্য শাইনিং’ সিনেমার জ্যাক নিকোলসনের চরিত্রের মতো। প্রতিটা দিন এভাবেই কাটতো। বাবা কোনো কথাই বলতো না। কেবল ঘরের দরজাটা লাথি দিয়ে খুলতো আর আমার দিকে এগিয়ে আসতো।

আমার জন্ম হয়েছিল নরকে। আমি একটানা ১২ বছর বাবা নামের এক দানবের সাথে বাস করেছি। আর এখন আমি দুর্বল, সত্যিই দুর্বল। আমি নিজেকে শান্ত রাখতে পিয়ানো বাজাই। তারপরও আমি সেই নিপীড়নের কথা ভুলতে পারি না। বাবার মতো কারো চেহারা দেখলেই তাদের নিপীড়ক আর জারজ মনে হয়।  

এই সহিংসতার স্মৃতিগুলো আমার ভেতর এমনভাবে গেঁথে আছে আমি ভুলতে পারি না। আমার প্রাণশক্তি কালো হয়ে গেছে, কালো, একেবারে কালো। এই ক্ষোভ থেকেই শৈশবে আমি ছোট ছোট পাখি হাতের নাগালে পেলেই মেরে ফেলতে শুরু করি। তারপর আমি বিড়ালের দিকেও খুনে হাত বাড়াই।

আমার বয়স যখন সতেরো, তখন মনে হতে লাগলো সবাইকে পিটিয়ে তার নাড়ি-ভুড়ি বের করে ফেলি। হোক তারা আমার চেয়ে আকারে বড়, আমার চেয়ে লম্বা- আমি কাউকেই পরোয়া করতাম না। মনে হতো ক্ষোভ ভেতরে চেপে রাখাও এক ধরনের আত্মনিপীড়ন। এই ক্ষোভের প্রকাশ না ঘটাতে পারলে হয়তো আমি নিজেকেই শেষ করে দিতাম, আত্মহত্যা করতাম।

কয়েক বছর আগে আমি এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে দিই। তখন ভোর ৩টা। সে একটা ব্রিজের নিচ দিয়ে যাচ্ছিলো। স্রেফ একটা মাদকাসক্ত। তাকে পোড়াতে আমার একটুও খারাপ লাগেনি। বরং আমার হাসি পেয়েছিল। অনুভব করেছিলাম এক ধরনের মুক্তির স্বাদ।’  

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *